মূল কন্টেন্টে যান
টিআইএন

অনলাইনে ই-টিআইএন খোলার নিয়ম — কাদের লাগে, কীভাবে করবেন

ঘরে বসে বিনামূল্যে ই-টিআইএন সার্টিফিকেট খোলার ধাপে ধাপে নিয়ম — কাদের টিআইএন লাগে, কী কী তথ্য দরকার এবং টিআইএন থাকলে রিটার্ন দিতে হয় কি না।

লিখেছেন শান্ত ইসলামপ্রকাশ: ২ মিনিটে পড়ুন
শেয়ার করুন:
সূচিপত্র দেখুন

সংক্ষিপ্ত উত্তর: ই-টিআইএন খুলতে secure.incometax.gov.bd সাইটে গিয়ে রেজিস্টার করুন, এনআইডির তথ্য দিয়ে ফরম পূরণ করুন — সঙ্গে সঙ্গেই টিআইএন সার্টিফিকেট ডাউনলোড করতে পারবেন। পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনে, সম্পূর্ণ বিনামূল্যে, কোনো কাগজ জমা দেওয়ার ঝামেলা নেই।

টিআইএন কী এবং কেন লাগে?

টিআইএন (TIN — Taxpayer Identification Number) হলো করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর, ১২ সংখ্যার একটি ইউনিক নম্বর যা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দেয়। আয়কর দেওয়া ছাড়াও দৈনন্দিন অনেক কাজে টিআইএন বাধ্যতামূলক।

কোন কোন কাজে টিআইএন লাগে?

  • ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া বা নবায়ন
  • জমি-ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশন (নির্দিষ্ট মূল্যসীমার ওপরে)
  • ব্যাংক ঋণ ও ক্রেডিট কার্ডের আবেদন
  • গাড়ির মালিকানা নিবন্ধন
  • সঞ্চয়পত্র কেনা (নির্দিষ্ট সীমার ওপরে)
  • সরকারি টেন্ডারে অংশগ্রহণ ও পেশাদার লাইসেন্স

কী কী তথ্য লাগবে?

হাতের কাছে রাখুন

  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নম্বর
  • সচল মোবাইল নম্বর
  • বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা
  • পেশা/আয়ের উৎসের তথ্য (চাকরি, ব্যবসা ইত্যাদি)

কোনো কাগজ স্ক্যান বা আপলোড করতে হয় না — এনআইডি নম্বর দিলে নির্বাচন কমিশনের ডেটাবেজ থেকে তথ্য যাচাই হয়ে যায়।

ই-টিআইএন খোলার ধাপ

  1. ই-টিআইএন পোর্টালে অ্যাকাউন্ট খুলুন

    secure.incometax.gov.bd সাইটে Register বাটনে ক্লিক করুন। ইউজার আইডি, পাসওয়ার্ড ও মোবাইল নম্বর দিন — মোবাইলে আসা ভেরিফিকেশন কোড দিয়ে অ্যাকাউন্ট চালু করুন।

  2. টিআইএন আবেদন ফরম পূরণ করুন

    লগইন করে TIN Application অপশনে যান। করদাতার ধরন (Individual → Bangladeshi), আয়ের প্রধান উৎস ও অবস্থান নির্বাচন করুন। এরপর এনআইডি নম্বর, জন্মতারিখ ও বাকি তথ্য দিন।

  3. তথ্য মিলিয়ে সাবমিট করুন

    সাবমিটের আগে প্রিভিউ দেখে নিন — নামের বানান, জন্মতারিখ ঠিক আছে কি না। এনআইডির সঙ্গে তথ্য মিললে আবেদন সঙ্গে সঙ্গে গৃহীত হয়।

  4. সার্টিফিকেট ডাউনলোড করুন

    আবেদন সফল হলে তাৎক্ষণিক ১২ ডিজিটের টিআইএন তৈরি হয়ে যায়। View Certificate থেকে পিডিএফ ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে রাখুন — এটিই আপনার টিআইএন সার্টিফিকেট।

খরচ ও সময়

  • খরচ: শূন্য টাকা — নিবন্ধন, সার্টিফিকেট ডাউনলোড সবই ফ্রি
  • সময়: তথ্য প্রস্তুত থাকলে ১০–১৫ মিনিট

টিআইএন নিলেই কি কর দিতে হবে?

না — টিআইএন থাকা মানেই কর দেওয়া নয়। আয় করযোগ্য সীমার ওপরে গেলে তবেই আয়কর আসে। তবে টিআইএনধারী হিসেবে রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা অধিকাংশ ক্ষেত্রে থাকে — আয় কম হলে শূন্য রিটার্ন। রিটার্ন না দিলে জরিমানাসহ নানা সেবায় জটিলতা হতে পারে, তাই টিআইএন খোলার পর প্রতি বছর রিটার্নের সময়সীমা (সাধারণত ৩০ নভেম্বর) মনে রাখুন।

সাধারণ প্রশ্নোত্তর

টিআইএন খুলতে কত টাকা লাগে?

এক টাকাও না। ই-টিআইএন নিবন্ধন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে — এনবিআরের ওয়েবসাইটে নিজেই করা যায়। কেউ টাকা চাইলে বুঝবেন সে অনিয়ম করছে।

টিআইএন থাকলেই কি প্রতি বছর রিটার্ন দিতে হবে?

সাধারণ নিয়মে টিআইএনধারীদের রিটার্ন দাখিল করতে হয়, আয় করযোগ্য সীমার নিচে হলেও অনেক ক্ষেত্রে শূন্য রিটার্ন দিতে হয়। তবে কিছু ব্যতিক্রম আছে — আপনার ক্ষেত্রে কোন নিয়ম প্রযোজ্য, তা এনবিআরের সর্বশেষ নির্দেশনা বা একজন কর পরামর্শকের কাছ থেকে জেনে নিন।

একজনের কি একাধিক টিআইএন থাকতে পারে?

না। একজন ব্যক্তির একটিই টিআইএন — একাধিক টিআইএন রাখা আইনত দণ্ডনীয়। ভুলে দুটি হয়ে গেলে কর অফিসে আবেদন করে একটি বাতিল করতে হবে।

টিআইএন সার্টিফিকেট হারিয়ে গেলে কী করব?

চিন্তার কিছু নেই। ই-টিআইএন পোর্টালে আপনার অ্যাকাউন্টে লগইন করে যেকোনো সময় সার্টিফিকেট আবার ডাউনলোড ও প্রিন্ট করা যায়।

তথ্যসূত্র ও আইনি রেফারেন্স

  1. জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) — ই-টিআইএন পোর্টাল
  2. আয়কর আইন, ২০২৩

আরও পড়ুন

লেখাটি শেয়ার করুন, লেখকের পরিচয় দেখুন এবং একই বিষয়ের আরও গাইড পড়ুন।

শেয়ার করুন:

লেখকের পরিচিতি

শান্ত ইসলাম — এলএল.বি — BAUET, এলএল.এম — BUP

লেখক

শান্ত ইসলাম

প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সম্পাদক · এলএল.বি — BAUET · এলএল.এম — BUP

শান্ত ইসলাম বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (BAUET) থেকে এলএল.বি এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (BUP) থেকে এলএল.এম সম্পন্ন করেছেন। তিনি বাংলাদেশের আইন, সরকারি সেবা ও নাগরিক অধিকার নিয়ে সহজ বাংলায় লেখালেখি করেন — লক্ষ্য একটাই, জটিল আইনি বিষয়কে সাধারণ মানুষের কাছে বোধগম্য করে তোলা।

সম্পর্কিত

একই বিষয়ের দরকারি গাইড

পাসপোর্ট৪ মিনিটে পড়ুন

ই-পাসপোর্ট করতে কী কী লাগে? আবেদন থেকে হাতে পাওয়া পর্যন্ত সম্পূর্ণ গাইড

ই-পাসপোর্টের অনলাইন আবেদন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ফি, ছবি ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট এবং পাসপোর্ট হাতে পাওয়া পর্যন্ত প্রতিটি ধাপের সহজ ব্যাখ্যা।

আয়কর৩ মিনিটে পড়ুন

আয়কর রিটার্ন দাখিলের নিয়ম: কারা দেবেন, কী লাগে, অনলাইনে ই-রিটার্ন যেভাবে

কাদের রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক, শূন্য রিটার্ন কী, কী কী কাগজ লাগে এবং etaxnbr.gov.bd-তে ঘরে বসে ই-রিটার্ন দাখিলের ধাপে ধাপে নিয়ম — শেষ তারিখ ৩০ নভেম্বর।