আয়কর রিটার্ন দাখিলের নিয়ম: কারা দেবেন, কী লাগে, অনলাইনে ই-রিটার্ন যেভাবে
কাদের রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক, শূন্য রিটার্ন কী, কী কী কাগজ লাগে এবং etaxnbr.gov.bd-তে ঘরে বসে ই-রিটার্ন দাখিলের ধাপে ধাপে নিয়ম — শেষ তারিখ ৩০ নভেম্বর।
সূচিপত্র দেখুন
সংক্ষিপ্ত উত্তর: টিআইএনধারী প্রায় সবাইকে বছরে একবার আয়কর রিটার্ন দিতে হয় — আয় কম হলে শূন্য রিটার্ন। সবচেয়ে সহজ পথ ই-রিটার্ন: etaxnbr.gov.bd-তে টিআইএন ও বায়োমেট্রিক-নিবন্ধিত সিমের ওটিপি দিয়ে ঢুকে আয়-সম্পদের তথ্য দিলে সিস্টেম নিজেই কর হিসাব করে; অনলাইনেই দাখিল, সঙ্গে সঙ্গে রিটার্ন-স্লিপ (PSR) ডাউনলোড। ব্যক্তি করদাতার শেষ তারিখ সাধারণত ৩০ নভেম্বর।
কাদের রিটার্ন দিতে হবে?
মোটা দাগে —
- আয় করমুক্ত সীমার বেশি হলে (সীমা প্রতি বাজেটে হালনাগাদ হয়)
- টিআইএন আছে এবং আইনে রিটার্ন-বাধ্যতামূলক শ্রেণিতে পড়েন (অধিকাংশ টিআইএনধারী)
- যেসব সেবা নিতে PSR লাগে — ঋণ, লাইসেন্স, গাড়ি, সঞ্চয়পত্র ইত্যাদি — সেগুলোর প্রয়োজনে
- টিআইএন এখনো নেই? আগে পড়ুন ই-টিআইএন খোলার নিয়ম
কী কী কাগজ/তথ্য হাতে রাখবেন?
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
- টিআইএন সার্টিফিকেট ও এনআইডি
- বেতনভোগী হলে: বেতন বিবরণী/প্রত্যয়ন, উৎসে কর কর্তনের প্রমাণ
- ব্যাংক স্টেটমেন্ট (আয় ও উৎসে কাটা করসহ) — ৩০ জুন পর্যন্ত
- ব্যবসায়ী হলে: আয়-ব্যয়ের হিসাব, ট্রেড লাইসেন্স
- বিনিয়োগের প্রমাণ (রেয়াতের জন্য): সঞ্চয়পত্র, ডিপিএস, জীবনবিমা, শেয়ার
- সম্পদের তথ্য: জমি-ফ্ল্যাট, গাড়ি, স্বর্ণ, আগের বছরের রিটার্নের কপি (থাকলে)
- বায়োমেট্রিক-নিবন্ধিত নিজের নামের সিম (ই-রিটার্নের ওটিপির জন্য)
অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিলের ধাপ
ই-রিটার্ন পোর্টালে নিবন্ধন করুন
etaxnbr.gov.bd-তে টিআইএন ও নিজের নামে বায়োমেট্রিক-নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করুন — ওটিপি দিয়ে পাসওয়ার্ড সেট হবে। একবার নিবন্ধনেই প্রতি বছর কাজ চলবে।
রিটার্ন ফরমের প্রশ্নগুলোর উত্তর দিন
লগইন করে চলতি করবর্ষের রিটার্ন শুরু করুন। সিস্টেম ধাপে ধাপে জিজ্ঞেস করবে: আয়ের উৎস (চাকরি/ব্যবসা/ভাড়া/অন্যান্য), অঙ্ক, খরচ, বিনিয়োগ, সম্পদ-দায়। সৎ ও নথিভিত্তিক তথ্য দিন — ব্যাংকের উৎসে-কর তথ্য অনেকাংশে আগে থেকেই সিস্টেমে টানা থাকে।
কর হিসাব দেখুন — রেয়াত মিলিয়ে নিন
সিস্টেম নিজেই করযোগ্য আয়, বিনিয়োগ-রেয়াত ও প্রদেয় কর হিসাব করবে। বিনিয়োগের তথ্য দিতে ভুলবেন না — বৈধ রেয়াতে করের অঙ্ক উল্লেখযোগ্য কমে।
কর (থাকলে) অনলাইনে দিন
প্রদেয় কর থাকলে এ-চালান/কার্ড/এমএফএসে পোর্টাল থেকেই পরিশোধ করুন; উৎসে কর ও অগ্রিম কর সমন্বয় হবে। শূন্য রিটার্নে এ ধাপ লাগেই না।
দাখিল করে PSR ডাউনলোড করুন
সাবমিটের সঙ্গে সঙ্গে প্রাপ্তিস্বীকারপত্র ও রিটার্ন-স্লিপ (PSR) পাবেন — পিডিএফ নামিয়ে প্রিন্ট করে রাখুন; সারা বছর ব্যাংক-অফিসে এটিই চাওয়া হবে। কাগজে দিতে চাইলে পুরনো নিয়মে নিজ কর সার্কেলে ফরম জমাও চলে।
দেরি করলে কী হয়?
সময়মতো (কর দিবসের মধ্যে) রিটার্ন না দিলে জরিমানা এবং কিছু ক্ষেত্রে রেয়াত-সুবিধা হারানোসহ বাড়তি হারে কর প্রযোজ্য হতে পারে; PSR-নির্ভর সেবাগুলোও আটকে যায়। নিয়ম একটাই — নভেম্বরের শেষ সপ্তাহের ভিড়ের আগেই সেরে ফেলুন; ই-রিটার্নে পুরো কাজ এক সন্ধ্যার।
সাধারণ প্রশ্নোত্তর
রিটার্ন দাখিলের শেষ তারিখ কবে?
ব্যক্তি করদাতাদের জন্য 'কর দিবস' — সাধারণত ৩০ নভেম্বর। সময়মতো না দিলে জরিমানা ও বাড়তি করের ঝুঁকি ছাড়াও রিটার্ন-স্লিপনির্ভর সেবাগুলো আটকে যায়। এনবিআর মাঝে মাঝে সময় বাড়ায়, তবে শেষ সপ্তাহের ভিড়ে অপেক্ষা না করাই ভালো।
আয় করমুক্ত সীমার নিচে — তবু রিটার্ন দিতে হবে?
টিআইএনধারী হিসেবে যাদের রিটার্ন বাধ্যতামূলক, আয় কম হলেও তাদের 'শূন্য রিটার্ন' দিতে হয় — অর্থাৎ আয়ের ঘরে প্রকৃত (কম) অঙ্ক দেখিয়ে দাখিল, কর শূন্য। এতে খরচ নেই, কিন্তু রিটার্ন-স্লিপ পেয়ে যাবেন।
রিটার্ন-স্লিপ (PSR) কোথায় কোথায় লাগে?
সরকারি তালিকা অনুযায়ী চার শতাধিক না হলেও বহু সেবায় — যেমন ব্যাংক ঋণ, গাড়ির নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন, নির্দিষ্ট অঙ্কের ওপরের সঞ্চয়পত্র, ক্রেডিট কার্ড, পেশাদার সনদ নবায়ন ইত্যাদিতে রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ (PSR) চাওয়া হয়।
চলতি বছরের করমুক্ত সীমা কত?
করমুক্ত সীমা ও করহার প্রতি বছরের বাজেটে পরিবর্তন হতে পারে — সাধারণ পুরুষ করদাতার সীমা সাড়ে তিন লাখ টাকার আশপাশে এবং নারী ও জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের বেশি থাকে। রিটার্ন তৈরির আগে চলতি অর্থবছরের হার এনবিআরের সাইট বা ই-রিটার্ন সিস্টেমে দেখে নিন — সিস্টেম নিজেই সঠিক হারে কর হিসাব করে।
ভুল হলে কি সংশোধিত রিটার্ন দেওয়া যায়?
যায় — নির্ধারিত সময় ও শর্তের মধ্যে সংশোধিত রিটার্ন দাখিলের সুযোগ আইনে আছে। ই-রিটার্নে আগের দাখিলের তথ্য দেখে সংশোধনী জমা দেওয়া যায়; জটিল ক্ষেত্রে আয়কর আইনজীবী/আইটিপির পরামর্শ নিন।
তথ্যসূত্র ও আইনি রেফারেন্স
আরও পড়ুন
লেখাটি শেয়ার করুন, লেখকের পরিচয় দেখুন এবং একই বিষয়ের আরও গাইড পড়ুন।
লেখকের পরিচিতি

লেখক
শান্ত ইসলাম
প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সম্পাদক · এলএল.বি — BAUET · এলএল.এম — BUP
শান্ত ইসলাম বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (BAUET) থেকে এলএল.বি এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (BUP) থেকে এলএল.এম সম্পন্ন করেছেন। তিনি বাংলাদেশের আইন, সরকারি সেবা ও নাগরিক অধিকার নিয়ে সহজ বাংলায় লেখালেখি করেন — লক্ষ্য একটাই, জটিল আইনি বিষয়কে সাধারণ মানুষের কাছে বোধগম্য করে তোলা।
সম্পর্কিত
সম্পর্কিত লেখা
একই বিষয়ের দরকারি গাইড
অনলাইনে ই-টিআইএন খোলার নিয়ম — কাদের লাগে, কীভাবে করবেন
ঘরে বসে বিনামূল্যে ই-টিআইএন সার্টিফিকেট খোলার ধাপে ধাপে নিয়ম — কাদের টিআইএন লাগে, কী কী তথ্য দরকার এবং টিআইএন থাকলে রিটার্ন দিতে হয় কি না।
ই-পাসপোর্ট করতে কী কী লাগে? আবেদন থেকে হাতে পাওয়া পর্যন্ত সম্পূর্ণ গাইড
ই-পাসপোর্টের অনলাইন আবেদন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ফি, ছবি ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট এবং পাসপোর্ট হাতে পাওয়া পর্যন্ত প্রতিটি ধাপের সহজ ব্যাখ্যা।