মূল কন্টেন্টে যান
ভূমি আইন

খতিয়ান ও পর্চা অনলাইনে তোলার নিয়ম — সিএস, এসএ, আরএস, বিএস কোনটা কী?

ঘরে বসে eporcha.gov.bd থেকে খতিয়ানের সার্টিফাইড কপি তোলার ধাপ, সিএস-এসএ-আরএস-বিএস খতিয়ানের পার্থক্য, ফি ও জমি কেনার আগে রেকর্ড যাচাইয়ের চেকলিস্ট।

লিখেছেন শান্ত ইসলামপ্রকাশ: ২ মিনিটে পড়ুন
শেয়ার করুন:
সূচিপত্র দেখুন

সংক্ষিপ্ত উত্তর: খতিয়ান (পর্চা) এখন আর ভূমি অফিসে ধরনা দিয়ে তুলতে হয় না — eporcha.gov.bd-তে বিভাগ→জেলা→উপজেলা→মৌজা বেছে খতিয়ান/দাগ নম্বর বা মালিকের নাম দিয়ে খুঁজুন, ১০০ টাকা ফি দিয়ে QR কোডযুক্ত সার্টিফাইড কপি নিন — অনলাইনেই ডাউনলোড, চাইলে ডাকযোগে বাড়িতে।

সিএস, এসএ, আরএস, বিএস — কোনটা কী?

বিভিন্ন আমলের জরিপে তৈরি রেকর্ড — জমির ইতিহাস বুঝতে চারটিই চিনে রাখুন:

খতিয়ানআমলচেনার উপায়
সিএস (CS)ব্রিটিশ আমলের প্রথম জরিপ (১৮৮৮–১৯৪০)সবচেয়ে পুরনো ভিত্তি-রেকর্ড
এসএ (SA)জমিদারি অধিগ্রহণের পর (১৯৫৬–৬২)মাঠ জরিপ ছাড়াই তৈরি — ভুল বেশি
আরএস (RS)স্বাধীনতার আগে-পরের সংশোধনী জরিপমাঠ জরিপভিত্তিক, তুলনামূলক নির্ভরযোগ্য
বিএস / সিটি জরিপ (BS)চলমান/সাম্প্রতিক জরিপসর্বশেষ রেকর্ড — বর্তমান মালিকানার ভিত্তি

জমি কেনার আগে ধারাবাহিকতা মেলান: সিএস → এসএ → আরএস → বিএস → সর্বশেষ নামজারি খতিয়ান — প্রতিটি ধাপে মালিকানা কীভাবে হাতবদল হলো, দলিলে তার প্রমাণ আছে কি না।

অনলাইনে খতিয়ান তোলার ধাপ

  1. eporcha.gov.bd-তে জমি খুঁজুন

    ই-পর্চা পোর্টালে ঢুকে "খতিয়ান অনুসন্ধান"-এ যান — খতিয়ানের ধরন (সিএস/এসএ/আরএস/বিএস/নামজারি) বেছে বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও মৌজা নির্বাচন করুন। এরপর খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর বা মালিকের নাম — যেকোনোটা দিয়ে খুঁজুন।

  2. রেকর্ড মিলিয়ে দেখুন

    ফলাফলে মালিকের নাম, দাগ, জমির পরিমাণ (অংশ) দেখা যাবে — বিনামূল্যে। যাচাইয়ের জন্য এটুকুই অনেক সময় যথেষ্ট।

  3. সার্টিফাইড কপির আবেদন করুন

    "খতিয়ান আবেদন" অপশনে নিজের এনআইডি, জন্মতারিখ ও মোবাইল নম্বর দিয়ে ফরম পূরণ করুন। ডেলিভারি বেছে নিন: অনলাইন কপি (দ্রুততম) বা ডাকযোগে কাগুজে কপি।

  4. ফি দিয়ে কপি বুঝে নিন

    ১০০ টাকা (+ ডাক-মাশুল, প্রযোজ্য হলে) বিকাশ/নগদ/রকেট/কার্ডে দিন। অনলাইন সার্টিফাইড কপি QR কোডসহ পিডিএফ আকারে নামবে — যে-কেউ কোড স্ক্যান করে সত্যতা যাচাই করতে পারবে।

জমি কেনার আগে ৫ মিনিটের যাচাই-চেকলিস্ট

রেকর্ড মেলান

  • বিক্রেতার নাম সর্বশেষ খতিয়ানে (বিএস/নামজারি) আছে কি?
  • দাগ নম্বর ও জমির পরিমাণ দলিলের সঙ্গে মিলছে কি?
  • খতিয়ানে সহ-মালিক (অংশীদার) কারা — সবাই বিক্রিতে সম্মত কি?
  • ভূমি উন্নয়ন কর কার নামে, হালনাগাদ পরিশোধিত কি?
  • সিএস থেকে বর্তমান পর্যন্ত হাতবদলের প্রতিটি ধাপের দলিল/ওয়ারিশান প্রমাণ আছে কি?

সাধারণ প্রশ্নোত্তর

খতিয়ান আর পর্চা কি একই জিনিস?

কার্যত হ্যাঁ — জমির মালিকানার সরকারি রেকর্ডের নামই খতিয়ান; জরিপের সময় মালিককে দেওয়া খতিয়ানের অনুলিপিকে লোকমুখে পর্চা বলে। দৈনন্দিন ব্যবহারে দুটো শব্দ একই অর্থে চলে।

অনলাইন কপি দিয়ে কি আদালত/অফিসের কাজ চলবে?

eporcha থেকে দুই ধরনের কপি মেলে — তাৎক্ষণিক অনলাইন কপি (সাধারণ দেখা-যাচাইয়ের জন্য) আর QR কোডযুক্ত সার্টিফাইড কপি (ডাকযোগে বা অনলাইন ডেলিভারি)। আইনি কাজে সার্টিফাইড কপিই ব্যবহার করুন।

খতিয়ান তুলতে কত টাকা লাগে?

সার্টিফাইড কপির সরকারি ফি ১০০ টাকা (অনলাইন ডেলিভারি); ডাকযোগে নিলে ডাক-মাশুল যোগ হয়। পেমেন্ট বিকাশ/নগদ/রকেট/কার্ডে করা যায়। হার পরিবর্তন হতে পারে — পোর্টালে দেখানো অঙ্কই চূড়ান্ত।

দাগ নম্বর জানি কিন্তু খতিয়ান নম্বর জানি না — খুঁজে পাব?

পাবেন। eporcha-তে দাগ নম্বর, মালিকের নাম — যেকোনোটা দিয়ে খোঁজা যায়। মৌজা ঠিকমতো নির্বাচন করাই আসল; মৌজার নাম না জানলে দলিল বা পুরনো দাখিলায় পাবেন।

তথ্যসূত্র ও আইনি রেফারেন্স

  1. ই-পর্চা — ভূমি মন্ত্রণালয়
  2. ভূমি সেবা পোর্টাল

আরও পড়ুন

লেখাটি শেয়ার করুন, লেখকের পরিচয় দেখুন এবং একই বিষয়ের আরও গাইড পড়ুন।

শেয়ার করুন:

লেখকের পরিচিতি

শান্ত ইসলাম — এলএল.বি — BAUET, এলএল.এম — BUP

লেখক

শান্ত ইসলাম

প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সম্পাদক · এলএল.বি — BAUET · এলএল.এম — BUP

শান্ত ইসলাম বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (BAUET) থেকে এলএল.বি এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (BUP) থেকে এলএল.এম সম্পন্ন করেছেন। তিনি বাংলাদেশের আইন, সরকারি সেবা ও নাগরিক অধিকার নিয়ে সহজ বাংলায় লেখালেখি করেন — লক্ষ্য একটাই, জটিল আইনি বিষয়কে সাধারণ মানুষের কাছে বোধগম্য করে তোলা।

সম্পর্কিত

একই বিষয়ের দরকারি গাইড

ভূমি আইন২ মিনিটে পড়ুন

নামজারি (মিউটেশন) করার নিয়ম: ই-নামজারির আবেদন, খরচ ও সময়

জমি কেনা বা ওয়ারিশসূত্রে পাওয়ার পর নামজারি কেন বাধ্যতামূলক — ই-নামজারির অনলাইন আবেদন, প্রয়োজনীয় কাগজ, সরকারি ফি ১,১৭০ টাকা, শুনানি ও খতিয়ান পাওয়ার পূর্ণ প্রক্রিয়া।