খতিয়ান ও পর্চা অনলাইনে তোলার নিয়ম — সিএস, এসএ, আরএস, বিএস কোনটা কী?
ঘরে বসে eporcha.gov.bd থেকে খতিয়ানের সার্টিফাইড কপি তোলার ধাপ, সিএস-এসএ-আরএস-বিএস খতিয়ানের পার্থক্য, ফি ও জমি কেনার আগে রেকর্ড যাচাইয়ের চেকলিস্ট।
সূচিপত্র দেখুন
সংক্ষিপ্ত উত্তর: খতিয়ান (পর্চা) এখন আর ভূমি অফিসে ধরনা দিয়ে তুলতে হয় না — eporcha.gov.bd-তে বিভাগ→জেলা→উপজেলা→মৌজা বেছে খতিয়ান/দাগ নম্বর বা মালিকের নাম দিয়ে খুঁজুন, ১০০ টাকা ফি দিয়ে QR কোডযুক্ত সার্টিফাইড কপি নিন — অনলাইনেই ডাউনলোড, চাইলে ডাকযোগে বাড়িতে।
সিএস, এসএ, আরএস, বিএস — কোনটা কী?
বিভিন্ন আমলের জরিপে তৈরি রেকর্ড — জমির ইতিহাস বুঝতে চারটিই চিনে রাখুন:
| খতিয়ান | আমল | চেনার উপায় |
|---|---|---|
| সিএস (CS) | ব্রিটিশ আমলের প্রথম জরিপ (১৮৮৮–১৯৪০) | সবচেয়ে পুরনো ভিত্তি-রেকর্ড |
| এসএ (SA) | জমিদারি অধিগ্রহণের পর (১৯৫৬–৬২) | মাঠ জরিপ ছাড়াই তৈরি — ভুল বেশি |
| আরএস (RS) | স্বাধীনতার আগে-পরের সংশোধনী জরিপ | মাঠ জরিপভিত্তিক, তুলনামূলক নির্ভরযোগ্য |
| বিএস / সিটি জরিপ (BS) | চলমান/সাম্প্রতিক জরিপ | সর্বশেষ রেকর্ড — বর্তমান মালিকানার ভিত্তি |
জমি কেনার আগে ধারাবাহিকতা মেলান: সিএস → এসএ → আরএস → বিএস → সর্বশেষ নামজারি খতিয়ান — প্রতিটি ধাপে মালিকানা কীভাবে হাতবদল হলো, দলিলে তার প্রমাণ আছে কি না।
অনলাইনে খতিয়ান তোলার ধাপ
eporcha.gov.bd-তে জমি খুঁজুন
ই-পর্চা পোর্টালে ঢুকে "খতিয়ান অনুসন্ধান"-এ যান — খতিয়ানের ধরন (সিএস/এসএ/আরএস/বিএস/নামজারি) বেছে বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও মৌজা নির্বাচন করুন। এরপর খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর বা মালিকের নাম — যেকোনোটা দিয়ে খুঁজুন।
রেকর্ড মিলিয়ে দেখুন
ফলাফলে মালিকের নাম, দাগ, জমির পরিমাণ (অংশ) দেখা যাবে — বিনামূল্যে। যাচাইয়ের জন্য এটুকুই অনেক সময় যথেষ্ট।
সার্টিফাইড কপির আবেদন করুন
"খতিয়ান আবেদন" অপশনে নিজের এনআইডি, জন্মতারিখ ও মোবাইল নম্বর দিয়ে ফরম পূরণ করুন। ডেলিভারি বেছে নিন: অনলাইন কপি (দ্রুততম) বা ডাকযোগে কাগুজে কপি।
ফি দিয়ে কপি বুঝে নিন
১০০ টাকা (+ ডাক-মাশুল, প্রযোজ্য হলে) বিকাশ/নগদ/রকেট/কার্ডে দিন। অনলাইন সার্টিফাইড কপি QR কোডসহ পিডিএফ আকারে নামবে — যে-কেউ কোড স্ক্যান করে সত্যতা যাচাই করতে পারবে।
জমি কেনার আগে ৫ মিনিটের যাচাই-চেকলিস্ট
রেকর্ড মেলান
- বিক্রেতার নাম সর্বশেষ খতিয়ানে (বিএস/নামজারি) আছে কি?
- দাগ নম্বর ও জমির পরিমাণ দলিলের সঙ্গে মিলছে কি?
- খতিয়ানে সহ-মালিক (অংশীদার) কারা — সবাই বিক্রিতে সম্মত কি?
- ভূমি উন্নয়ন কর কার নামে, হালনাগাদ পরিশোধিত কি?
- সিএস থেকে বর্তমান পর্যন্ত হাতবদলের প্রতিটি ধাপের দলিল/ওয়ারিশান প্রমাণ আছে কি?
সাধারণ প্রশ্নোত্তর
খতিয়ান আর পর্চা কি একই জিনিস?
কার্যত হ্যাঁ — জমির মালিকানার সরকারি রেকর্ডের নামই খতিয়ান; জরিপের সময় মালিককে দেওয়া খতিয়ানের অনুলিপিকে লোকমুখে পর্চা বলে। দৈনন্দিন ব্যবহারে দুটো শব্দ একই অর্থে চলে।
অনলাইন কপি দিয়ে কি আদালত/অফিসের কাজ চলবে?
eporcha থেকে দুই ধরনের কপি মেলে — তাৎক্ষণিক অনলাইন কপি (সাধারণ দেখা-যাচাইয়ের জন্য) আর QR কোডযুক্ত সার্টিফাইড কপি (ডাকযোগে বা অনলাইন ডেলিভারি)। আইনি কাজে সার্টিফাইড কপিই ব্যবহার করুন।
খতিয়ান তুলতে কত টাকা লাগে?
সার্টিফাইড কপির সরকারি ফি ১০০ টাকা (অনলাইন ডেলিভারি); ডাকযোগে নিলে ডাক-মাশুল যোগ হয়। পেমেন্ট বিকাশ/নগদ/রকেট/কার্ডে করা যায়। হার পরিবর্তন হতে পারে — পোর্টালে দেখানো অঙ্কই চূড়ান্ত।
দাগ নম্বর জানি কিন্তু খতিয়ান নম্বর জানি না — খুঁজে পাব?
পাবেন। eporcha-তে দাগ নম্বর, মালিকের নাম — যেকোনোটা দিয়ে খোঁজা যায়। মৌজা ঠিকমতো নির্বাচন করাই আসল; মৌজার নাম না জানলে দলিল বা পুরনো দাখিলায় পাবেন।
তথ্যসূত্র ও আইনি রেফারেন্স
আরও পড়ুন
লেখাটি শেয়ার করুন, লেখকের পরিচয় দেখুন এবং একই বিষয়ের আরও গাইড পড়ুন।
লেখকের পরিচিতি

লেখক
শান্ত ইসলাম
প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সম্পাদক · এলএল.বি — BAUET · এলএল.এম — BUP
শান্ত ইসলাম বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (BAUET) থেকে এলএল.বি এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (BUP) থেকে এলএল.এম সম্পন্ন করেছেন। তিনি বাংলাদেশের আইন, সরকারি সেবা ও নাগরিক অধিকার নিয়ে সহজ বাংলায় লেখালেখি করেন — লক্ষ্য একটাই, জটিল আইনি বিষয়কে সাধারণ মানুষের কাছে বোধগম্য করে তোলা।
সম্পর্কিত
সম্পর্কিত লেখা
একই বিষয়ের দরকারি গাইড
নামজারি (মিউটেশন) করার নিয়ম: ই-নামজারির আবেদন, খরচ ও সময়
জমি কেনা বা ওয়ারিশসূত্রে পাওয়ার পর নামজারি কেন বাধ্যতামূলক — ই-নামজারির অনলাইন আবেদন, প্রয়োজনীয় কাগজ, সরকারি ফি ১,১৭০ টাকা, শুনানি ও খতিয়ান পাওয়ার পূর্ণ প্রক্রিয়া।