এমআরটি পাস ও র্যাপিড পাস: কোথায় পাবেন, কীভাবে রিচার্জ করবেন
মেট্রোরেলের এমআরটি পাস ও র্যাপিড পাস কেনার নিয়ম, দাম ও ডিপোজিট, ১০% ভাড়া ছাড়, রিচার্জের উপায়, হারিয়ে গেলে করণীয় ও পাস ফেরত দিয়ে টাকা তোলার পদ্ধতি।
সূচিপত্র দেখুন
সংক্ষিপ্ত উত্তর: নিয়মিত মেট্রোতে চড়লে এমআরটি পাস নিন — দাম ৫০০ টাকা (২০০ টাকা ফেরতযোগ্য ডিপোজিট + ৩০০ টাকা ব্যবহারযোগ্য ব্যালেন্স), পাওয়া যায় মেট্রো স্টেশনের এক্সেস টিকিট অফিসে নিবন্ধন ফরম পূরণ করে। প্রতি যাত্রায় ১০% ছাড়, টিকিটের লাইনে দাঁড়ানো লাগে না, রিচার্জ করা যায় স্টেশনের মেশিনেই।
পাস নেবেন কেন — হিসাবটা দেখুন
ধরুন মিরপুর-১০ থেকে মতিঝিল নিয়মিত অফিস করেন — একক টিকিটে দৈনিক ৬০+৬০ = ১২০ টাকা। পাসে ১০% ছাড়ে ১০৮ টাকা: মাসে ২২ কর্মদিবসে ২৬৪ টাকা সাশ্রয়, বছরে তিন হাজারের বেশি। সঙ্গে যোগ করুন প্রতিদিন দুবেলা টিকিটের লাইনে না দাঁড়ানোর সময় — নিয়মিত যাত্রীর জন্য পাস না নেওয়ার কোনো কারণ নেই। ভাড়ার পূর্ণ চার্ট দেখুন মেট্রোরেলের ভাড়ার তালিকায়।
এমআরটি পাস কেনার নিয়ম
নিবন্ধন ফরম পূরণ করুন
যেকোনো মেট্রো স্টেশনের এক্সেস টিকিট অফিস/কাউন্টারে ফরম পাবেন; DMTCL-এর ওয়েবসাইট থেকে আগেভাগে ডাউনলোড করে পূরণ করে নিলে আরও দ্রুত হয়। লাগবে: নাম, মোবাইল নম্বর ও এনআইডি/জন্ম নিবন্ধন নম্বর।
৫০০ টাকা দিয়ে কার্ড বুঝে নিন
৫০০ টাকার মধ্যে ২০০ টাকা কার্ড-ডিপোজিট (পাস ফেরত দিলে ফেরতযোগ্য) আর ৩০০ টাকা যাত্রার ব্যালেন্স। কার্ড হাতে পাওয়ামাত্রই ব্যবহারযোগ্য।
গেটে ছুঁইয়ে যাতায়াত করুন
ঢোকার গেটে কার্ড ছোঁয়ান, গন্তব্য স্টেশনে বের হওয়ার গেটে আবার ছোঁয়ান — ভাড়া (১০% ছাড়সহ) নিজে থেকে কেটে যাবে, ডিসপ্লেতে ব্যালেন্সও দেখাবে।
রিচার্জ করুন প্রয়োজনমতো
স্টেশনের টিকিট মেশিন (TVM) বা কাউন্টারে নগদ টাকায় রিচার্জ করা যায় — একবারে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত। র্যাপিড পাসের জন্য নির্ধারিত ব্যাংক/অনলাইন রিচার্জ সুবিধাও ধাপে ধাপে বাড়ছে — হালনাগাদ তালিকা rapidpass.com.bd-তে।
পাস হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হলে
- হারালে: নিবন্ধনের সময় দেওয়া তথ্যসহ স্টেশনের এক্সেস টিকিট অফিসে জানান — পুরনো কার্ড ব্লক করে নির্ধারিত ফিতে নতুন কার্ডে ব্যালেন্স স্থানান্তরের ব্যবস্থা আছে। নিবন্ধিত তথ্য ঠিক রাখার গুরুত্ব এখানেই।
- নষ্ট/অকার্যকর হলে: কার্ডটি কাউন্টারে দেখান; ত্রুটি আপনার না হলে বিনা খরচে বদলে দেওয়ার নিয়ম।
- আর দরকার নেই? কাউন্টারে পাস ফেরত দিলে ডিপোজিটের ২০০ টাকা ও অব্যবহৃত ব্যালেন্স ফেরত পাবেন।
সাধারণ প্রশ্নোত্তর
এমআরটি পাস আর র্যাপিড পাসের পার্থক্য কী?
দুটিই রিচার্জযোগ্য স্মার্ট কার্ড এবং দুটিতেই মেট্রোরেলে ১০% ছাড়ে চড়া যায়। এমআরটি পাস ইস্যু করে DMTCL (মেট্রো স্টেশন থেকে), আর র্যাপিড পাস DTCA-র কার্ড — মেট্রোর পাশাপাশি নির্ধারিত কিছু বাস ও অন্যান্য গণপরিবহনেও ব্যবহারের লক্ষ্যে চালু। নিয়মিত শুধু মেট্রোতে চড়লে যেকোনো একটিই যথেষ্ট।
পাস কিনতে কী কী লাগে?
একটি নিবন্ধন ফরম (স্টেশনে বা অনলাইনে পাওয়া যায়), নাম-মোবাইল নম্বর ও এনআইডি/জন্মসনদের তথ্য, আর কার্ডের দাম। বিদেশিরা পাসপোর্টের তথ্য দিয়ে নিতে পারেন।
একটি পাসে কি কয়েকজন যাওয়া যায়?
না — একটি পাসে একবারে একজনই গেট পার হতে পারেন। পরিবারের সবার জন্য আলাদা পাস নিন, অথবা বাকিদের একক যাত্রার টিকিট কেটে দিন।
পাসে সর্বোচ্চ কত টাকা রাখা যায়?
রিচার্জের সর্বোচ্চ সীমা ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত। ব্যালেন্স শেষ হয়ে গেলে এক্সিট গেটে আটকে যেতে পারেন — লম্বা যাত্রার আগে ব্যালেন্স দেখে নিন; স্টেশনের মেশিনে যেকোনো সময় ব্যালেন্স চেক করা যায়।
তথ্যসূত্র ও আইনি রেফারেন্স
আরও পড়ুন
লেখাটি শেয়ার করুন, লেখকের পরিচয় দেখুন এবং একই বিষয়ের আরও গাইড পড়ুন।
লেখকের পরিচিতি

লেখক
শান্ত ইসলাম
প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সম্পাদক · এলএল.বি — BAUET · এলএল.এম — BUP
শান্ত ইসলাম বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (BAUET) থেকে এলএল.বি এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (BUP) থেকে এলএল.এম সম্পন্ন করেছেন। তিনি বাংলাদেশের আইন, সরকারি সেবা ও নাগরিক অধিকার নিয়ে সহজ বাংলায় লেখালেখি করেন — লক্ষ্য একটাই, জটিল আইনি বিষয়কে সাধারণ মানুষের কাছে বোধগম্য করে তোলা।
সম্পর্কিত
সম্পর্কিত লেখা
একই বিষয়ের দরকারি গাইড
মেট্রোরেলের ভাড়ার তালিকা ২০২৬: কোন স্টেশন থেকে কোথায় কত টাকা?
ঢাকা মেট্রোরেলের (এমআরটি লাইন-৬) সব স্টেশনের তালিকা, উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ভাড়ার পূর্ণ চার্ট, সময়সূচি, টিকিট কাটার নিয়ম ও ভাড়ার হিসাবের সহজ সূত্র — এক লেখায়।
জন্ম নিবন্ধন করার নিয়ম: অনলাইন আবেদন, ফি ও সংশোধন — পূর্ণ গাইড
নতুন জন্ম নিবন্ধন ও পুরনো হাতে লেখা সনদ ডিজিটাল করার নিয়ম — bdris.gov.bd-তে আবেদন, বয়সভেদে ফি ও প্রমাণ, ইংরেজি ভার্সন এবং তথ্য সংশোধনের প্রক্রিয়া।
এনআইডি সংশোধন করার নিয়ম: নাম, জন্মতারিখ ও ঠিকানা বদলাবেন যেভাবে
জাতীয় পরিচয়পত্রের ভুল অনলাইনে সংশোধনের ধাপ — services.nidw.gov.bd-তে আবেদন, কোন সংশোধনে কী প্রমাণ লাগে, ক্যাটাগরিভেদে ফি ও কত দিন লাগে।